একুশের চিঠি - জাকিয়া পারভীন

লেখক: Ashram Magazine
প্রকাশিত হয়েছে : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৩ | দেখা হয়েছে: ১৩৭৫ বার

প্রিয় তৌশি,
শহীদ মিনারের ইতিহাস তুমি জানো। তবু আবারো বলছি।বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোট পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে। মাঝখানের স্তম্ভটি সবচেয়ে উঁচু এবং উপরের অংশটি সামনের দিকে নোয়ানো। এই উঁচু স্তম্ভটির দুই পাশে সমান ছোটো-বড় আরও চারটি স্তম্ভ। 

অতন্দ্র প্রহরী চার সন্তানকে নিয়ে মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন মা। পেছনে উদীয়মান লাল টকটকে সূর্য। অর্থাৎ, মাতৃভাষার অধিকার, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যেমন অকাতরে জীবন দিয়েছিল রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত। তেমনি মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব আর মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় মায়ের পাশে এখনও অতন্ত্র প্রহরায় তার সন্তানেরা। আর পেছনের লাল সূর্যটা স্বাধীনতার, নতুন দিনের, অন্ধকার দূর করে আলোর উৎসারণ। 

মূল নকশা শিল্পী হামিদুর রহমান। সময়কাল ১৯৫৭ সাল। সহকর্মী ভাস্কর নভেরা আহমেদ।

তৌশি ২১ শে ফেব্রুয়ারি কে নিয়ে আমাদের খুব সুন্দর স্মৃতি রয়েছে। চেহারার বই প্রত্যেক বছর এই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয় আমায়। শহীদ মিনারের ইতিহাস তোমায় জানিয়েছি আজ আবার জানালাম এই চেহারার বইতে। সেই সাথে তোমার কাছে একটি  চাওয়া রইলো। শুধু ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে নয় মাঝে মাঝে তুমি শহীদ মিনারের কাছে যাবে। তার কাছে যেয়ে তোমার মাতৃভাষার আত্মত্যাগের ইতিহাসকে স্মরণ করো। তাদের স্মরণ করো ভালোবেসে, শ্রদ্ধায় যারা তাদের জীবনের বিনিময়ে তোমার জন্য একটি ভাষা এনেছে।  নিজে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করো না যা তোমার ভাষার অমর্যাদা করে। আধুনিক হয়ে উঠো কিন্তু নিজের ইতিহাস কে ভুলে নয়। তোমার শিকড়ের গন্ধ শরীরে জড়িয়ে রেখো মা। 
আমার চাওয়া তোমার কাছে রইলো।
-তোমার আম্মু

জাকিয়া পারভীন
ঢাকা, বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:
মন্তব্যসমূহ (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। যেসব ঘর পূরণ করা বাধ্যতামূলক, সেগুলোতে * চিহ্ন দেওয়া আছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন