আমার হাতদুটো ধরো
দৃষ্টিহীন হওয়া বেদনার
অন্তর্দৃষ্টিহীন হওয়া ভয়ঙ্কর!
আমার হাতদুটো ধরো
দেখ অন্তরকে ছুঁয়ে যেতে পারো কিনা
ওখানে শতাব্দী প্রাচীন নদীর প্রবাহ বয়
ওখানে সুন্দরের মাঝে নিরন্তর জেগে থাকেন ঈশ্বর
ওখানেই হিজলের বন, ঘুঘুর ডাকে কান পাতা গ্রীষ্মের নিঝুম দুপুর
ওখানেই ঘুমায় ফুল কুড়ানো কিশোর কিশোরীর স্বপ্ন বিপুল!
পৃথিবীর খবরের পাতায় আজ শুধু বিভীষিকা, নৈরাজ্য, প্রতিহিংসা, মোহ আর লিপ্সা
আমাদের চারপাশে শৈল্পিক মিথ্যেয় সাজানো সব মৃত্যুর ফাঁদ
আমরা তো এখানে কেউ বিভৎসতার প্রতিভূ হতে আসিনি
মানুষের সকল সৃষ্টিই সভ্যতা নয়
ধ্বংসকারীও ধ্বংস হয় একদিন
মহাকালে খোদিত আছে প্রজ্ঞাপন
ওরা দেখে না, দেখতে চায় না, ওরা পড়ে না!
আমি একটি মুক্ত আকাশের কথা বলি
আমি একভোর মখমলি উষ্ণতা ছড়ানো একটি ধরিত্রীর কথা বলি
আমি নিঃসীম নৈঃশব্দের গহীনতাকে ছুঁয়ে যাওয়া এক ফোঁটা নীরব অশ্রুর কাছে আনত একটি মৌন ব্রতের কথা বলি
আমি সত্য পুঞ্জ সফেদ মেঘের নিচে জন্মাবধি দহিত হওয়া এক সুবোধের কথা বলি
আমি...!
এই হাতদুটো ধরো
দেখ পড়তে পারো কিনা অন্তর
এখানে শস্যের সবুজ ক্ষেতের মায়াময় ভাষায় রোজ পাঠশালা বসে
এখানে কঠিন শিলার বুক ফুঁড়ে জেগে ওঠা সতেজ অঙ্কুরের মতো মাথা তুলে দাঁড়ায় সাহস
এখানেই তুমি, আমি আর আমরা, লক্ষ কোটি আমাদের বসত ঘর
এসো---
হাতে হাত মিলাও
আমাদের প্রিয় জমিন পরে আজ সভ্যতার দাবদাহ, লাভার তপ্ত স্রোত বয়
কিছু পরাজয়ের পরে আর কোনো পরাজয় থাকে না, থাকতে পারে না
আন্তর আলোর মিছিলে পরাজয় বলে কোনো ভাষা থাকে না, থাকতে পারে না
আমার হাতদুটো ধরো
দেখ পড়তে পারো কিনা অন্তর!
XXXXX
টরোন্টো নিবাসী বাঙালি কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অন্ধ’।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!